মা দিবসে আম্মাকে শ্রদ্ধা। আম্মার কথা তাঁর অপর চার বোনকে বাদ দিয়ে অসম্পূর্ণ। আমার ৫ মা-খালারা সবাই মেধাবী। এর মধ্যে বড় খালা গত হয়েছেন। বেঁচে আছেন আম্মাসহ ৪ জন। এ যুগে জন্মালে উনারা প্রত্যেকেই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যেতে পারতেন। কিন্তু হায় সে যুগে নারী শিক্ষা উচ্চস্তরে অপ্রতুল ছিল। শুধু মাত্র ছোট খালা এইচএসসি পাশ করতে পেরেছেন। অন্যরা সকলে প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত পড়েছেন। আমাদের নানার পরিববার ছিল সংস্কৃতি সম্পন্ন। নানা সঙ্গীতের যন্ত্রী ছিলেন।উনি তবলায় ও এসরাজে দক্ষ ছিলেন। সেই হিসেবে সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগ প্রায় পুরো পরিবারের ছিল।
আমার দাদার পরিবার ছিল কৃষক পরিবার। আম্মা অকৃষক পরিবার থেকে এসেও দিব্বি খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন, সবাইকে আপন করে নিয়েছিলেন। ধর্ম চর্চা ও আমারা যাকে আউট বই বলি সবই পড়েন। আমার ছোট কন্যার সংস্কৃতি চর্চার ব্যাপারেে দু’একজন বলার চেষ্টা করেন, আম্মা তাদের নাকচ করে দেন যুক্তি দিয়ে।নয়াউদারনীতিবাদে স্বাস্থ্যসহ অনেক কিছুই বাজারের দখলে। আম্মা করোনা আক্রান্ত হলে একটা প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজে কয়েকদিন চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। ওখানে ওরা বিল করেছিল এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এই যে বিপুল ব্যয় এটা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। প্রবাসে দুই বোন থাকার জন্য, মূলত ওদের আর্থিক অবদানের জন্য সুচিকিৎসা সম্ভব হয়। করোনা নাঙা করে দেখালো পুঁজিতন্ত্রের অসারতা। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কারণে আম্মার চিকিৎসা বাংলাদেশের চেয়ে ভালো হচ্ছে। আর সবদিক দিয়ে যত্নে আছেন। এজন্য দূরে থাকলেও তিনি ভালো এটা ভেবে স্বস্থি পাই। পৃথিবীর সকল মা-শিশু ভালো থাকুন বললেইতো আর সবাই ভলো থাকতে পারেন না। যুদ্ধ-খরা এগুলো মা ও শিশুদের অরক্ষিত করে বেশী। তাই সেই মহা বয়ানের স্বপ্নের সমাজের প্রত্যাশায় যেখানে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বৈষম্য-যুদ্ধ যাদুঘরে চলে যাবে। পৃথিবীর সকল মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন